‘খেলাপি ঋণ আদায়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিন’
বিজবার্তা রিপোর্ট :
প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ঢাকা : খেলাপি ঋণ আদায়ে বাস্তবসম্মত কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে ঋণ আদায়ে অঞ্চল ও ব্যাংকের শাখা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিতে হবে। তবে, ঋণ প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ে আরও সতর্কতা দরকার। ভুয়া ঋণ বিতরণ থেকে বিরত থাকা এবং আদায় করা যাবে এমন ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে অর্থমন্ত্রনালয়।
বুধবার সচিবালয়ে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়। ব্যাংকগুলো হচ্ছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বিডিবিএল, বিকেবি ও রাকাব। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রনালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
বৈঠকে সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত ‘বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি’র বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই- সেপ্টেম্বর) ব্যাংকগুলোর সার্বিক অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। তবে, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত ‘বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি’র বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ আদায়ে একমাত্র বিডিবিএল ছাড়া সবকটি ব্যাংক নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
বৈঠকে খেলাপি ঋণ আদায় পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হওয়ার কারণ হিসেবে রীট মামলাকে দায়ী করেছে ব্যাংকগুলো। ভুয়া ঋণ বিতরণ প্রসঙ্গে ব্যাংকগুলো বলেছে যে, অনেক সময় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে এগুলোর প্রকৃত মূল্য যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না।
বৈঠকে রীট মামলা নিষ্পত্তিতে ব্যাংকগুলোর অর্জন সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে এক্ষেত্রে ব্যাংকের আইনজীবী প্যানেলকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থঋণ আদালতে চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে পৃথক বেঞ্চ গঠনের বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়ছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত ‘বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি’র বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রীট মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এগিয়ে আছে অগ্রণী (৩৫ শতাংশ মামলার বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৯ শতাংশ) এবং বিকেবি (৩০ শতাংশ মামলার বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ২৬ শতাংশ)।
বাকী ছয়টি ব্যাংকের মধ্যে ৭০ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সোনালী ব্যাংক প্রথম প্রান্তিকে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, ৩০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জনতা ব্যাংক ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রূপালী ব্যাংক ১২ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বেসিক ব্যাংক ১৪ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিডিবিএল ব্যাংক ৭ শতাংশ ও ৩১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাকাব ১২ শতাংশ রীট মামলা নিষ্পত্তি করেছে।
কয়েক বছর ধরেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় সার্বিকভাবে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হতে পারে বলে গেল মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
- পিপিলস লিজিং, টাকা ফেরত পাবে গ্রাহক…
- ১০০০-৫০০ টাকার নোট বাতিল হচ্ছে না: বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসিক ব্যাংকের ইসলামপুর শাখা লকডাউন
- এক্সিম ব্যাংকের প্রশ্ন- ন্যাশনাল ব্যাংকের বিবৃতি কেন?
- টাকা ছাপানো আসলে কি?
- শ্বাসরুদ্ধকর পাঁচ ঘন্টা- কি হয়েছিল সেদিন?
- জানুয়ারী নয়, এপ্রিলে এক অংকের সুদ হার
- ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বই বাজার থেকে সরানোর নিদের্শ
- এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে গুলি- ঘটনা অস্বীকার
- ‘খেলাপি ঋণ আদায়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিন’
- প্রণোদনা অর্থের যোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
- ব্যাংক ঋণে সরকারের রেকর্ড
- পণ্য রফতানির নগদ সহায়তায় আরো ৫ খাত
- ব্যাংক লেনদেন বন্ধ থাকবে চারদিন